বর্ষায় সাপ-কীটপতঙ্গ থেকে প্রাকৃতিকভাবে মুক্তি পাওয়ার উপায়।

বর্ষা মানেই জলাবদ্ধ, প্যাচপেচে কাদা আর স্যাঁতসেতে পরিবেশ। মশা-মাছি ছাড়াও এমন পরিবেশ নানা রকম পোকামাকড় ও সাপখোপের পক্ষেও অনুকূল। তাই স্বভাবতই গৃহস্থের দুশ্চিন্তা বাড়ে। অন্যান্য ঋতুতে ঘরবাড়ির যত্ন নেওয়ার সঙ্গে বর্ষার দেখভালের খানিক তফাত আছে। এসময় কীটপতঙ্গ বাহিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ে।বিশেষ কিছু ঘরোয়া ও বৈজ্ঞানিক উপায় অবলম্বন করলে সাপ ও কীটপতঙ্গ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সহজেই। কিন্তু এই প্রতিরোধ প্রসঙ্গে অনেকেরই ধারণা খুব কম। তাই দেখে নিন, এই বর্ষায় পোকামাকড় ও সাপখোপের হাত থেকে বাঁচতে কি করবেন। *বর্ষা তো বটেই, বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন সারা বছরই। তাতে বর্ষায় পরিশ্রমও কমবে, আর সারা বছর সুস্থ থাকবে বাড়ির পরিবেশ। বর্ষা এলে বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে দিন কার্বলিক অ্যাসিড। কাচের বোতলে অ্যাসিড রেখে বিভিন্ন জায়গায় রেখে দিন। দেখবেন, তা যেন শিশুদের নাগালের বাইরে থাকে। সাপ থাকলে তা অ্যাসিডের গন্ধে পালিয়ে যাবে। *আশপাশের আবর্জনা নিয়মিত সাফাই করুন। বাড়ির বাগানেও আগাছা জমতে দেবেন না। এমনিতেই এখন মশা ও কীটনাশক দূরীকরণে সরকারি কাজে বাধা দিলে জরিমানার কথাও ভাবছে বিভিন্ন পুরসভা। *বাড়ির চারপাশে কোনও ডোবা বা অপরিষ্কার জলাশয় থাকলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। সরকারি স্তরে তা জানিয়ে সেই জলাশয় পরিষ্কার বা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করুন। বাড়ির চারপাশে জল জমতে দেবেন না একেবারেই। *কার্বলিক অ্যাসিডের সঙ্গে বাড়ির চারপাশে ডিডিটি, মশা মারার তেল ও ব্লিচিং পাউডার ছড়ান নিয়ম মেনে। পুরকর্মী ছাড়া নিজেও এই দায়িত্ব নিতেই পারেন সহজে।*বাড়িতে ইঁদুর বা ব্যাঙের হাজিরা থাকলে, সাপ বেশি আসে।

তা তাড়ানোর ব্যবস্থা করুন আগে। চেষ্টা করুন, খুব ক্ষতি না করলে যে কোনও প্রাণীকেই না মেরে, স্রেফ তাড়াতে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও তা প্রয়োজন। সব চেয়ে ভাল, যদি এ সবের প্রবেশ আটকাতে পারেন। তার জন্য প্রতি দিন কাজ শেষে রান্নাঘর, বাথরুম ও বাড়ির অন্যান্য ঘরের নর্দমার মুখ আটকে রাখুন। বেশিরভাগ সময়ে এ সব দিয়েই ঢোকে ব্যাঙ-ইঁদুর। *ঘরে যাতে সাপ ঢুকতে না পারে, সে জন্য খেয়াল রাখুন বাড়ির কোথাও কোনও ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছে কি না। সে সব আগে বন্ধ করুন। এ ছাড়া বাড়ির চারপাশে সালফার পাউডার ছড়ান। এর গন্ধেও সাপ বাড়ির ভিতরে ঢুকতে পারবে না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


23 views